সাক্ষাৎকার

ডাক্তার ও ফার্মা কম্পানি সম্পর্ক বৈধতা চাই ।

Super Admin8/30/2026
ডাক্তার ও ফার্মা কম্পানি সম্পর্ক বৈধতা চাই ।

অধ্যাপক ডা. এ কে এম মহিউদ্দিন ভুঁইয়া মাসুম, বিভাগীয় প্রধান (কার্ডিওলজি) পপুলার মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল বাংলাদেশের এখন প্রয়োজন চিকিৎসক ও ওষুধ/মেডিকেল ডিভাইস শিল্পের বৈজ্ঞানিক সম্পর্ককে অস্বীকার করা নয়; বরং একটি আধুনিক, বাস্তবসম্মত ও আন্তর্জাতিক মানের আইনি ও নৈতিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা। চিকিৎসকদের দেশ-বিদেশের বৈজ্ঞানিক সম্মেলন, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, প্রশিক্ষণ ও গবেষণায় অংশগ্রহণের অধিকার অক্ষুণ্ন রাখা হোক। ওষুধ ও মেডিকেল ডিভাইস কোম্পানির বৈধ শিক্ষা-সহায়তা ও বৈজ্ঞানিক স্পনসরশিপকে নিষিদ্ধ না করে আইন ও নীতিমালার মাধ্যমে স্বীকৃতি দেওয়া হোক।

নিষেধাজ্ঞা নয়—আইনসম্মত ডাক্তার ও ফার্মা কম্পানি সম্পর্ক বৈধতা চাই ।

 বাংলাদেশের এখন প্রয়োজন চিকিৎসক ও ওষুধ/মেডিকেল ডিভাইস শিল্পের বৈজ্ঞানিক সম্পর্ককে অস্বীকার করা নয়; বরং একটি আধুনিক, বাস্তবসম্মত ও আন্তর্জাতিক মানের আইনি ও নৈতিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা।
চিকিৎসকদের দেশ-বিদেশের বৈজ্ঞানিক সম্মেলন, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, প্রশিক্ষণ ও গবেষণায় অংশগ্রহণের অধিকার অক্ষুণ্ন রাখা হোক। ওষুধ ও মেডিকেল ডিভাইস কোম্পানির বৈধ শিক্ষা-সহায়তা ও বৈজ্ঞানিক স্পনসরশিপকে নিষিদ্ধ না করে আইন ও নীতিমালার মাধ্যমে স্বীকৃতি দেওয়া হোক। নগদ কমিশন, প্রেসক্রিপশনভিত্তিক অর্থ, রোগী রেফারেল ফি, গোপন উপঢৌকন, পারিবারিক সুবিধা, বিলাসভ্রমণ এবং বৈজ্ঞানিক কাজের আড়ালে ব্যক্তিগত লাভকে স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করা হোক। স্পনসরশিপ, শিক্ষা-অনুদান, সম্মানী, উপহার ও স্বার্থের সংঘাতের জন্য জাতীয় স্বচ্ছতা নীতিমালা এবং প্রয়োজনীয় নিবন্ধনব্যবস্থা চালু করা হোক। চিকিৎসক ও কোম্পানি—উভয় পক্ষের জন্য উপহার, আতিথেয়তা, সম্মানী, গবেষণা ও ভ্রমণ ব্যয়ের সীমা নির্ধারণ করা হোক। অনিয়ম হলে ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রমাণভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়া হোক—পুরো চিকিৎসক সমাজকে সন্দেহের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো না হোক।

শেষ কথা

চিকিৎসক, বিশ্ববিদ্যালয়, বৈজ্ঞানিক সংগঠন এবং ওষুধ ও মেডিকেল ডিভাইস শিল্প—আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতিতে প্রত্যেকেরই ভূমিকা রয়েছে। এই সম্পর্ক ছিন্ন করা সমাধান নয়। আবার সম্পর্কটি অস্বচ্ছ রাখাও গ্রহণযোগ্য নয়।
চিকিৎসকের সঙ্গে বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা এবং চিকিৎসকের সঙ্গে অনৈতিক লেনদেন—এই দুই বিষয়কে এক করে দেখা যাবে না। গবেষণা, প্রশিক্ষণ, সম্মেলন ও যুক্তিসংগত সম্মানী যেমন বৈধ হতে পারে, তেমনি প্রেসক্রিপশনভিত্তিক কমিশন, রোগী রেফারেল ফি, গোপন নগদ অর্থ, দামি উপঢৌকন, পারিবারিক সুবিধা ও বিলাসভ্রমণ স্পষ্টতই অনৈতিক এবং প্রয়োজনে আইনগত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।
আমাদের সামনে তাই তৃতীয় এবং সবচেয়ে যুক্তিসংগত পথটি বেছে নেওয়া উচিত— ‘নিষেধাজ্ঞা নয়—নীতিমালা’, ‘গোপনীয়তা নয়—স্বচ্ছতা’, ‘বৈষম্য নয়—যোগ্যতার ভিত্তিতে সমান সুযোগ’, ‘অভিযোগ নয়—প্রমাণভিত্তিক জবাবদিহি’, ‘উপঢৌকন ও কমিশন নয়—রোগীর স্বার্থে স্বাধীন চিকিৎসা সিদ্ধান্ত’, ‘বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা বন্ধ নয়—আইনসম্মত ও নৈতিক সহযোগিতা নিশ্চিত হোক’।
চিকিৎসকদের আন্তর্জাতিক জ্ঞান অর্জনের দরজা খোলা থাকুক। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বৈধ বৈজ্ঞানিক সহযোগিতাও চলুক। একই সঙ্গে এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে উঠুক যেখানে রোগী, চিকিৎসক, সরকার এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠান—সবার কাছেই সম্পর্কটি স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য থাকে। কারণ শেষ পর্যন্ত আধুনিক জ্ঞান ও প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষিত একজন চিকিৎসকের সবচেয়ে বড় সুফলভোগী কোনো কোম্পানি নয়—রোগী।

মন্তব্য

মন্তব্য লোড হচ্ছে…