বাগেরহাটের বেসরগাতিতে ” লতিফ মাস্টার ফাউন্ডেশনের “ উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প

নিজস্ব প্রতিবেদক | বাগেরহাট
বিস্তারিতঃ
মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষে বাগেরহাটের বেসরগতিতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ‘লতিফ মাস্টার ফাউন্ডেশন’। ফাউন্ডেশনের নিজস্ব কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক দিনব্যাপী বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্পে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রখ্যাত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা অংশ নেন এবং কয়েক শতাধিক রোগীকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন।
ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক নানা কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। তবে বর্তমান সময়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা ছিল ফাউন্ডেশনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে এবারের ক্যাম্পে মেডিসিন, শিশু রোগ, গাইনী, চর্ম-যৌন এবং ফিজিওথেরাপির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়।
শনিবার (২১ ডিসেম্বর, ২০২৬) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই ক্যাম্পে রোগীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা অভিজ্ঞ ডাক্তারদের পরামর্শ পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
ক্যাম্পে আগত এবং চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মধ্যে ছিলেন:
ডাঃ প্রদীপ কুমার বক্সী (মেডিসিন বিশেষজ্ঞ)
ডাঃ খান শিহান মাহমুদ (শিশু বিশেষজ্ঞ)
ডাঃ ইসরাত জাহান (গাইনী ও স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ)
ডাঃ প্রসেনজিৎ বক্সী (মেডিসিন বিশেষজ্ঞ)
ডাঃ নিরুপম মণ্ডল (শিশু ও কিডনী রোগ বিশেষজ্ঞ)
ডাঃ সংগ্রাম কান্তি কুন্ডু (ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ)
ডাঃ আব্দুর রহমান হিমেল (মেডিসিন বিশেষজ্ঞ)
ডাঃ মো: মিরাজুল করিম (গাইনী ও স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ)
ডাঃ সোহাগ শেখ (চর্ম-যৌন ও এলার্জি রোগ বিশেষজ্ঞ)
লতিফ মাস্টার ফাউন্ডেশনের এই অনন্য উদ্যোগ শুধু বাগেরহাটের বেসরগতিতেই নয়, বরং সারা জেলায় মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ফাউন্ডেশনের এই মহৎ কার্যক্রম স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেছে।
বাগেরহাট ও খুলনার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, চিকিৎসা বিশেষজ্ঞগণ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এই ক্লিনিক পরিদর্শন করে এখানকার সেবার মান এবং উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তারা বলেন, “লতিফ মাস্টার ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকায় এমন বিশ্বমানের চিকিৎসা ক্যাম্প আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয়।”
উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, এই ধরণের জনকল্যাণমূলক এবং ফ্রি চিকিৎসা সেবার আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে, যাতে আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষ আধুনিক চিকিৎসার সুফল থেকে বঞ্চিত না হয়।