সার্বজনীন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে SACMO: রাষ্ট্রের প্রত্যাশা, বাস্তবতা ও করণীয়

সার্বজনীন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে SACMOদের ভূমিকা, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা, দায়িত্ব, প্রশিক্ষণ ও পেশাগত সমস্যা নিয়ে ঢাকায় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঢাকা, ২১ আগস্ট ২০২৬: সার্বজনীন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারদের (SACMO) ভূমিকা, রাষ্ট্রের প্রত্যাশা, বিদ্যমান বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে “সার্বজনীন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার: রাষ্ট্রের প্রত্যাশা, বাস্তবতা ও করণীয়” শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার রাজধানীর আইডিইবি ভবন, কাকরাইল, ঢাকায় এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় SACMOদের দীর্ঘদিনের দায়িত্ব, মাঠপর্যায়ে তাদের অবদান এবং স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তাদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হলে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের কার্যকরভাবে কাজে লাগানো জরুরি। ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে SACMOরা জনগণের প্রাথমিক চিকিৎসা, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, টিকাদানসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
তারা আরও বলেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও জনগণের আস্থা বাড়াতে SACMOদের দায়িত্ব, প্রশিক্ষণ, কর্মপরিবেশ, জনবল ও প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের পেশাগত বিভিন্ন সমস্যা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
আলোচনায় রাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক প্রত্যাশার সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার সমন্বয় ঘটিয়ে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে SACMOদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ডিপ্লোমা মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (BDMA)-এর নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং SACMOদের পেশাগত ও প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।
বক্তারা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, এ ধরনের আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে নীতিনির্ধারক ও মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার হবে এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য কার্যকর, সহজলভ্য ও মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পথ আরও সুগম হবে।